স্যাটেলাইট কি?


স্যাটেলাইট কি?
স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ।সাধারণ ভাবে বলতে গেলে যেকোনো টিভি অনুষ্ঠান প্রচার করার পর বা যেকোনো খবর আমাদের কাছে পোঁছানোর যে মাধ্যম তাকেই স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।স্যাটেলাইটকে রকেট বা স্পেস শাটলের কার্গো বে-এর মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হয়।স্যাটেলাইট কে কক্ষপথে রেখে আসতে রকেট কে ২৫ হাজার ৩৯ মাইল ত্বরণে ছুটতে হয়।
স্যাটেলাইট আসলে কিভাবে কাজ করে?
স্বাভাবিক বলতে গেলে আমরা যদি কারউ সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই আমরা তৃতীয় কোন ব্যাক্তির সাহায্য নিয়ে থাকি,যদি ভার্চুয়াল এ যোগাযোগ করার চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যইই মোবাইল আর বাস্তবে যোগাযোগ করার হলে গাড়ি, তেমনি ভাবে আমরা যদি মোবাইলে এ যোগাযোগ করার চেষ্টা করি তাহলে মোবাইলও তৃতীয় কোন ব্যাক্তির সাহায্য নিয়ে থাকে আর এই তৃতীয় ব্যাক্তিটাই হচ্ছে স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ।এই কৃত্রিম উপগ্রহ এর মাধ্যামেই আমরা পৃতিবীর যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারি,এখন আসি টিভি চ্যানেল এবং ইন্টারনেটে, টিভি চ্যানেল গুলা তাদের এখান থেকে স্যাটেলাইট এ বার্তা প্রেরন করে তারপর আমাদের এখানে বসানো রিসিভার এর মাধ্যামে বার্তা গুলা রিসিভ হয় এবং আমরা দেখতে পাই, তেমনি ভাবে ইন্টারনেট ও একই।স্যাটেলাইট তথ্য সংগ্রহের জন্য অথবা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পৃথিবী বা চাঁদ বা অন্য কোনো গ্রহের চারপাশে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথে অনেক স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে।সবগুলো স্যাটেলাইট  এর কাজ কিন্তু এক না, কোন কোন স্যাটেলাইট কে পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন গ্রহের ছবি তোলার জন্য, আবার কিছু পাঠানো হয়েছে আবহাওয়া বিদদেরকে আবহাওয়ার সংবাদ পাঠানোর জন্য,
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কি?
 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি একটি  কৃত্রিম উপগ্রহ, বাংলাদেশের এই কৃত্রিম উপগ্রহ ৫৭ তম দেশ হিসাবে মহাকাশে পাড়ি জমাবে,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থাকবে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে।কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত।তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই স্যাটেলাইট পুরা বাংলাদেশ কভার দিবে,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে ১৫ বছর ধরে সেবা দিবে, এই স্যাটেলাইট  তৈরিতে বাংলাদেশের খরচ হয়েছে ৩০০০ কোটি টাকা,
এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের জাতীয় জীবন এবং ব্যাক্তিগত জীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলবে?
জাতীয় জীবন:বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরিতে খরছ হয়েছে ৩০০০ কোটি টাকা,আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল গুলো তাদের অনুষ্ঠান প্রচার করার জন্য অন্য দেশের স্যাটেলাইট সিস্টেমের সাহায্য নিয়ে থাকে এই জন্য বছর শেষে বাংলাদেশের  টিভি চ্যানেল গুলোকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়,কিন্তু  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরিতে আর এই অর্থ বিদেশে যাবেনা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরিতে ৪০ টি ট্রান্সপন্ডার ব্যাবহার করা হয়েছে,৪০টি ট্রান্সপন্ডার এর মধ্য ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশে ভাড়া দিয়ে বাংলাদেশ বৈদিশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে,আর অন্য ২০টি ট্রান্সপন্ডার দেশের সেবাই নিয়োজিত থাকবে,
ব্যাক্তিগত জীবনে:ব্যাক্তিগত জীবনে আসলেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অনেক উপকার সাধন করবে,অন্য দেশের স্যাটেলাইট এর সাহায্য বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা সরবরাহ করতো, তাই সব কিছুর দাম উর্দ্বগতিতে থাকতো,কিন্তু এখন নিজস্ব স্যাটেলাইট এর কারণে সবকিছুর দাম নিম্নগতিতে থাকবে,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট  টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে।দেশে প্রতি মাসে অনেক অনেক আইটি ডেভেলপার বের হয়,মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই এই স্যাটেলাইট তৈরি। সর্বশেষ বলতে গেলে এটিকে নিঃসন্দেহে ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন দাবি করা যায়।
ARIAN TAREQ
BBS STUDENT 

No comments

Powered by Blogger.